স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর উপায়!!

স্মাটফোনের ব্যাটারি ড্রেইনের সমস্যা অাদৌ যে নতুন কোনো বিষয় তা কিন্তু নয় । এই সমস্যা অনেক দিন ধরে সবাইকে বিরক্তি দিচ্চে। ব্যাটারি ড্রেইন হওয়ার জন্য অনেক বড় রকমের কারনও রয়েছে। অাসুন নিচে থেকে জেনে অাসি।😄

সাধারনত কিছু সমস্যা জন্মগতভাবে মেনে নিতে হবে।

১/ যেসব ফোনের দাম তুলনামূলক ভাবে কম সেগুলোতে লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং লিথিয়াম পলিমারের চেয়ে কম ব্যাটারি খরচ হয়। লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ওজনে হালকা হয় এবং সুরক্ষার জন্য বেশ কার্যকর। তবে লিথিয়াম আয়নটির তুলনায় তাদের ব্যয় বেশি (30% গড়)। এছাড়াও লি-অয়ন ব্যাটারির তুলনায় লি-পলিমার ব্যাটারির শক্তি ঘনত্ব বেশ কম। যাই হোক, এগুলো নাও বুঝতে পারেন সহজ কথায় ফ্লাগশিপ কিংবা একটা অাইফোন ১২ এ যে ব্যাটারি ব্যবহৃত হয় সেটা অাপনার ফোনে হয় না। অার তাদের ব্যাটারি এমএজ অাপনার তুলনা দ্বিগুণ কম।

২/ অাপনি যে সর্বদা ফোনটি চার্জে রাখেন সেটাও ও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে কেননা অনেক ফোনে ওভারচার্জ সাপোর্ট থাকলেও ফোনটি বারবার চার্জে লাগানোর জন্য ফোনটির প্রসেসরে একটা চাপ পরে তাই নিদিষ্ট সময়ে ফুল চার্জ করে শেষ করে অাবার চার্জে লাগাবেন।

৩/ না বুঝে ফোনের ভার্সন অাপগ্রেড করেন সাবধানে থাকেন। অামি এখন টের পাচ্চি। যখন miui ৮ থেকে ১০ এ অাসলাম তখন বুঝতে পারলাম অাপগ্রেড করার কারনে ফোনটি যেমন ফাস্ট হয়েছে তেমনি ব্যাটারিওটা😄

৪/ ফোনের ব্যাটারি খুলেন না ভালো কথা খুলা যায় না কিন্তু ফোনটি জুড়ে জুড়ে দেওয়ালে,কার্পেটে ছুঁড়েন,কিংবা ফোনের স্কিনে পানি লাগান কিংবা ফোনটি বাথরুমে নিয়ে যান সাবধান অাপনি মনে করতেছেন ফোনের কিছু হবে না অাসলে পরে সব বুঝতে পারবেন। এখানেও ব্যাটারির ওপর চাপ পড়তেছে।

৫/ ফোন কেনার অাগে ব্যাটারি না দেখে চিপসেট বা প্রসেসর দেখুন ব্যাটারি ড্রেইনের জন্য প্রসেসরও এককথায় দায়ী।

যাইহোক, তার জন্মের অনেক দোষ দিলেন এখন অাপনাকে দোষী করার পালা চোখ ভালো করে রেডি থাকেন।

১) ফোনের স্ক্রিন
আধুনিক স্মার্টফোনগুলি আসার পর থেকে ফোনের পর্দাটি সবচেয়ে বড় ব্যাটারি ড্রেইনের কারন হয়ে গেছে। অাপনি ফোনের সেটিংস এ গিয়ে ব্যাটারি ইউজেস এ গেলে দেখতে পাবেন স্ক্রিন কতটুকু ব্যাটারি ড্রেইন করে। বর্তমানে স্মাটফোনের স্ক্রিন আরও বড়, উজ্জ্বল এবং আরও রঙিন হওয়ার পাশাপাশি উচ্চতর রেজুলেশন যুক্ত করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত উন্নতিগুলি ব্যাটারির ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে, এই সমস্ত কারণগুলি স্মার্টফোনের স্ক্রিনগুলিকে আরও ক্ষুধার্ত করে তোলে। ফোনের স্কিনে যেইরকম উন্নতি হচ্ছে সেইরকম উন্নতি ব্যাটারিতে হচ্চে না।

> স্ক্রিনের ব্যাটারি ড্রেন কম করার টিপসঃ

  1. সবসময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস/উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন।
  2. যদি অাপনি চান রাতে উজ্জ্বলতা কম থাকবে দিনে বেশি থাকবে তাহলে “Adaptive brightness”অথবা অটোমেটিক ব্রাইটনেস অন করে রাখবেন।
  3. বর্তনানে বেশ কিছু মিডরেন্জ টু ফ্লাগশিপ ফোনে হাইয়ার রিফ্রেশ রেট ফিচার রয়েছে। এটা মূলত ফোনের টাচ এক্সপেরিএন্স ও স্পিড বাড়ায়। এটা প্রয়োজন ছাড়া সবসময় ৬০ হার্য এ রাখবেন। এ বিষয়ে অারেকটু ক্লিয়ার হতে অামাকে পশ্ন পাঠানোর অনুরোধ রইল।
  4. স্ক্রিন টাইম কমিয়ে রাখুন সর্বদা ১৫-৩০ সেকেন্ড রাখুন। যদি বেশি সময় স্ক্রিন অন টাইম রাখেন তাহলে অাপনার স্ক্রিন সেইটুকু সময় অটোমেটিক অন থাকবে যদি পাওয়ার বাটনে ট্যাপ না করেন।
  5. কখনো লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করবেন না।
    লাইভ ওয়ালপেপার অাপনার ফোনের পিক্সেল জাগিয়ে রাখে এবং ভিডিও প্লে বেক করে। যার কারনে ব্যাটারি প্রচুর ড্রেইন হবে।
  6. একটি কালো ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন: আপনার ফোনে যদি AMOLED ডিসপ্লে থাকে তবে একটি কালো ওয়ালপেপার ব্যবহার করা সর্বাধিক শক্তি-দক্ষ। কারণ ডিসপ্লেতে সেই পিক্সেলগুলি সক্রিয় করতে হবে না।
  7. ফোনের ব্রাইবেটর/vibrate on tap, tap sound অফ করে রাখবেন।

> নেটওয়ার্ক সার্ভিস
অাহা ৪জি+ নেটওয়ার্ক পেয়ে কত কিছুই না দ্রুত স্ট্রিমিং করতেছেন।যারা প্রয়োজন ছাড়া স্ট্রিমিং করেন না তারা সবসময় নেটওয়ার্ক চেন্জ করে ৩জি রাখবেন।যদি সামর্থ থাকে তাহলে ওয়াইফাই ব্যবহার করুন এক্ষেতে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে প্লান পেয়ে যাবেন। সবচেয়ে ভালো হয় এয়ারপ্লেন মোড অন করে রাখা যদি কোন ফোন কল না অাসে।

> অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিসেস

  • – বর্তমানে যারা মিডরেন্জ,এন্টিলেভেল ফোনে নেটফ্লিক্স /ইউটিউব স্ট্রিমিং করেন চেষ্টা করুন এগুলোর ব্যবহারের পরিমাণ কমানো। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, মেসেঞ্জার এগুলোর লাইট ভার্সন ব্যবহার করুন।
  • – ফোনের সেটিংস এ গিয়ে অ্যাপ ও পারমিশন এ গিয়ে চেক করুন অটো স্টার্ট কোনো অ্যাপে অন করা অাছে কিনা? অবিলম্বে তারাতাড়ি অফ করুন।
  • – ফোনের জিপিএস/লোকেশন, ব্লুটোথ,sync,হটস্পট ইত্যাদি সর্বদা অফ রাখুন।
    – ফোনের অ্যাডিশনাল সেটিংস /additional settings এ গিয়ে >প্রাইভেসিতে গিয়ে নোটিফিকেশন অ্যাক্সেস/notification access এবং অ্যাপ ওইথ ইয়জেস অ্যাক্সেস/Apps with usage access সবগুলো অফ করে রাখবেন
  • – ফোনের accessibility অফ করে রাখবেন।

> অ্যাপ নোটিফিকেশন অফ করে রাখবেন।
অনেকে Vidmate,Youtube,Google,imo ইত্যাদি থেকে অত্যাধিক হারে নোটিফিকেশন পাচ্ছেন। এগুলো ফোনের ব্যাটারি ড্রেইনের অন্যতম কারন। যেসব অ্যাপ থেকে নোটিফিকেশন চান না অফ করে রাখবেন।

এমন অারো শত শত টিপস দিতে পারতাম তবে সময়ের সল্পতার কারনে এইটুকুই।

Leave a Reply

Blog at WordPress.com.

Up ↑

Create your own website, free on WordPress.com.Create your own website.
Start free