একুশ শতকে এসে প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার দ্রুত গতিতে বেড়েই যাচ্চে। অামরা অামাদের ব্যবহার করা প্রযুক্তি দিয়ে চাইলে টাকা অায় করতে পারি তবে এটা করতে অাপনাকে বাস্তবের মতো কঠোর পরিশ্রমি হতে হবে। মোবাইলে মাধ্যমে ইনকাম করা যায় অথবা যায় না। এটা একান্ত অাপনার ওপর ডিপেন্ড করে।
অামি অামার নিজের অভিজ্ঞতার দিক থেকে বলার চেষ্টা করি।
১ম বছরঃ মোবাইলের মাধ্যমে কীভাবে ইনকাম করা যায় এটার রিসার্চ করতে গিয়ে ১ বছর সময় নষ্ট।
২য় বছরঃ ইনকামের নামে ভাঁওতাবাজি, ধোঁকা, সময় নষ্ট, টাকা নষ্ট, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা, ভাই ইনকাম করতে হইলে ৫০/১০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রার করতে হয়, ভাই অাপনি ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে অনেক টাকা পাবেন,ভাই কাপর বিক্রি করিয়ে দিলে টাকা দিব,ভাই রেফার করলে বোনাস পাবেন, রিং অাইডিতে রেফার কোড ব্যবহার করে ৫০০ টাকা ইনকাম করলাম, একটি সাইটে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করুন হ্যান ত্যান ইত্যাদি মূলক কথা বার্তা শুনেছি 😃 😄 😀
৩য় বছরঃ সত্যিকারের ইনকামের রাস্তা পাই। তবে এটা শিখতে অনেক ধৈর্য ও ক্রিয়েটিভিটি প্রয়োজন। আসলে এটা ছিল ডিজাইনিং। বিভিন্ন রকমের লোগো,ব্যানার পোস্টার ইত্যাদি ডিজাইনিং করে দেওয়া। এটা করে আমি মোটামুটি 1000 টাকা ইনকাম করি। সত্যিকার অর্থেই আপনি মোবাইলের মাধ্যমে অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করতে পারবেন। আপনি যদি ডিজাইনের বিভিন্ন গ্রুপ বা কমিউনিটি ফলো করেন তাহলে আপনি সহজেই শিখে যাবেন। ইউটিউব এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজ এর মাধ্যমে:
এই গেল ডিজাইনিংয়ের পালা,এখন আসি ইউটিউব চ্যানেল মাধ্যমে কিভাবে ইনকাম করতে পারেন। আমি কিন্তু কোন প্রকারের ইনকাম করতে পারিনি তবে হ্যাঁ আপনি ভিডিও তৈরি করে ইনকাম করতে পারেন। এক্ষেত্রে ভিডিও তৈরি নিয়ে আপনার দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি যেকোন এক ক্যাটাগরিত পারদর্শী হতে হবে। যেমন ধরুন আপনি একটি ওয়াচের রিভিউ দিলেন এভাবে করতে করতে যখন 1000 সাবস্ক্রাইবার এবং 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম পূর্ণ করবেন তখন ইউটিউব এর পক্ষ থেকে আপনার চ্যানেল টি এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদি অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ হয় তাহলে আপনার ভিডিওতে এড শো করানোর মাধ্যমে গুগোল আপনাকে কিছু টাকা দিবেন । এটা বলা মুশকিল কত হাজার ভিউ কত টাকা দেয়। এটা ডিপেন্ড করবে আপনার এর কতজন ক্লিক বা শো করেছেন ।
কনটেন্ট বা ব্লগিং লিখে:
আসুন কনটেন্ট রাইটিং নিয়ে যেটাকে ব্লগিং বলা হয়। আপনার যদি লেখার দক্ষতা ভালো হয় তাহলে আপনি উপার্জন করতে পারবেন তাও আবার মোবাইল ফোন দিয়ে, এক্ষেত্রে ব্লগার বা ওয়াডপ্রেস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে । আপনি SEO, Theme, Website, domain/hosting, Content ইত্যাদি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা লাগবে । কারণ আপনার লেখাটা যদি মানুষের কাছে না পৌঁছায় তাহলে আপনি কিভাবে টাকা উপার্জন করবেন । তারপর এখানেও গুগোল টাকা দিয়ে থাকে যেমনটা ইউটিউব পেমেন্ট করে। আপনি যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লগপোস্ট তৈরি করবেন , তখন আপনি এডসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন যদি আপনার ওয়েবসাইটটি পরিপূর্ণ হয় কোন ত্রুটি না থাকে তাহলে এডসেন্স এপ্রুভ হবে। এবং আপনার ওয়েবসাইটে ব্যানারের বা বিভিন্ন প্রকারের অ্যাড শো করবে।
ম্যাগাজিন বা নিউজ লেখে:
এই বিষয়ে যদি আপনার কোন প্রকারের আগ্রহ না থাকে তাহলে বিভিন্ন ম্যাগাজিন বা নিউজ চ্যানেলের জন্য আর্টিকেল লিখে দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।খুঁজে নিন আপনার শহরের কোন কোন পত্রিকাগুলো কনটেন্ট রাইটারকে খুঁজতেছে।যেমন ধরুন আপনি ইত্তেফাকে একটি আর্টিকেল লিখে দিলেন এটা হবে আপনার আপনার জন্য স্টাফ রিপোর্টার।এভাবে আর্টিকেল লিখে মাসে অন্তত দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আমার একজন মামা মাসে 2 হাজার টাকা ইনকাম করেন উনি ক্লাস নাইনে পড়েন।
পিকো ওয়ার্কার্স এর মাধ্যমে:
এর পরে আসছি থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কিভাবে ইনকাম করা যায়। এখানে বাস্তবিক একটা উদাহরন দিয়ে শুরু করি। আমার খুব কাছের বন্ধু গত দুইমাস কঠোর পরিশ্রম করে সাত থেকে আট হাজার টাকা ইনকাম করেছে। এবং সেই টাকা দিয়ে সে শার্ট,প্যান্ট,বোট কিনেছে সে এত টাকা কিভাবে ইনকাম করল?সে আসলে পিকো ওয়ার্কার্স নামে একটি সাইট থেকে বিভিন্ন প্রকার ট্রাস্ক যেমন: ওয়েবসাইট ভিজিট করা, ইউটিউব এ চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করা, ইত্যাদি।তারপর এগুলোর স্ক্রিনশট আপনি যেই ব্যক্তির কাজ করছেন তাকে পাঠাবেন এবং সে চেক করে আপনাকে ডলার সেন্ড করবে। আপনি ডলার ভাঙিয়ে রকেটে বা বিকাশে টাকা আনতে পারবেন। বর্তমানে এটি অনেক প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে ভাই কোন কাজ বা টাস্ক কমপ্লিট করলে খুব অল্প পরিমাণ টাকা পাওয়া যায় অনেক সময় স্পাম বা হ্যাকিংয়ের শিকার হতে হয়।
গেইমস বা অ্যাপ্লিকেশন রিভিউ করে:
গেইম বা অ্যাপ রিভিউ বা রেফার করে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারেন। আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটে গেম বা অ্যাপ্লিকেশন এর রিভিউ দিবেন তখন সেগুলোর ডাউনলোড ফাইল বক্স বা এই জাতীয় ওয়েবসাইটে আপলোড করে শেয়ার করবেন তাহলে সেখান থেকে আপনি একটা কমিশন পাবেন।
ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং:
একটা ওয়েবসাইট ডিজাইন করে আপনি লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারেন। তবে এটা সবচেয়ে জটিল একটা বিষয় এক্ষেত্রে আপনাকে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা এইচটিএমএল জাভাস্ক্রিপ্ট সিএসএস শিখতে হবে। এটা মোবাইলে শিখতে পারবেন তারপরও অনেক কষ্ট পোহাতে হবে।
মোবাইল দিয়ে ভিডিও এডিটিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন তবে মোবাইল এর মাধ্যমে যে সব সময় প্রফেশনাল ভিডিও তৈরি করা যায় তা আসলে সঠিক না। তাই নরমাল ভিডিও এডিটিং করে হয়তো আপনি কিছু টাকা ইনকাম করতে পারেন।
ফুডপান্ডা কিংবা ডেলিভারি বয় হিসেবে:
যদি আপনার কাছে একটি মোটরসাইকেল থাকে এবং আপনার বয়স ১৮+ হয় তাহলে আজই শুরু করুন ফুড পান্ডায় ডেলিভারি দেওয়া। অনেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই কাজটি সেরে নিচ্ছেন এখানেও মোটামুটি ইনকাম ভালো পার্ট টাইম জব নিতে পারেন।
এই রকম আরো শত শত উপায় আছে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার তবে সর্বোপরি আপনার সেই বিষয়ের উপর ভালোবাসা,আকাঙ্ক্ষা,ইচ্ছা, আগ্রহ ও প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে।এটা এমন কোন বিষয় না যে আপনি রাতারাতি ধনী বা টাকা ইনকাম করে নিবেন ।মনে রাখবেন কেউ যদি বাস্তবে টাকা ইনকাম করে থাকেন তাহলে ধরে নিবেন সে কঠোর পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করেছিল । আমার এই নিঃস্বার্থ লেখাগুলো সার্থক হবে যদি আপনার কাজে আসে এবং সবার মাঝে শেয়ার করে দিবেন।☃️
🌷 ভালোবাসা ও দোয়া রইল পাঠকদের জন্য।547 বার দে
Leave a comment